পল্লী প্রগতি কর্মসূচির ইতিকথা

সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনের লক্ষে বিগত ০২ জানুয়ারী ২০০১ খ্রিঃ তারিখে একনেক সভার সিদ্ধান্তক্রমে জুলাই’২০০০ হতে জুন’২০০৫ মেয়াদে প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৪৯০০.৭৮ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে ২৭ জুন’২০০২ খ্রিঃ তারিখে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘‘পল্লী প্রগতি প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’’ শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ০৩ বছর অতিক্রাম হওয়ার পর ২০০৩ সালের শেষ দিকে মূলত এর ঋণ কার্যক্রমসহ অন্যান্য অঙ্গভিত্তিক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হয়। ২০০২-০৩ অর্থ বছরে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের মাধ্যমে প্রকল্পের জনবল নিয়োগ প্রদান করা হয়। প্রকল্পটি দেশের ৪৭৬ টি উপজেলার ৪৭৬ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হয়। নানা কারনে প্রকল্পের কাঙ্খিত উদ্দেশ্য অর্জিত না হওয়ায় ‘‘পল্লী প্রগতি প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’’ নামে এর মেয়াদ জুন’২০০৮ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ০১/৮/২০১০ খ্রিঃ তারিখের পত্র নং ১৭৮/১ মূলে পল্লী প্রগতি প্রকল্পের কার্যক্রম কর্মসূচি আকারে চলমান রাখার জন্য বিআরডিবিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তদপ্রেক্ষিতে বর্তমানে কর্মসূচিটি বিআরডিবি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের সামগ্রিক জনবল, ঋণ তহবিল, সম্পদ ও দায় কর্মসূচির জনবল, তহবিল, সম্পদ ও দায় হিসেবে পরিগনিত হয়েছে।

কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে দল গঠন, সদস্য ভর্তি, সঞ্চয় জমা, প্রশিক্ষণ, ঋণ বিতরণ ও আদায়, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, জীবিকায়ন পল্লী গঠন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন- নারীর ক্ষমতায়ন, বৃক্ষরোপন, স্যানিটেশন, যৌতুক বিরোধী সচেতনতা তৈরী, ইভটিজিং রোধে উদ্বুদ্ধকরণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কর্মসূচির আওতায় দলের মাধ্যমে ব্যাক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋণ হিসেবে ৩০,০০০ হতে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত এবং উদ্যোক্তা ঋণ হিসেবে ১,০০,০০০ হতে ৫,০০,০০০ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়। উভয় ঋণের সার্ভিস ফি ১১%। ক্ষুদ্র ঋণ এক বছর মেয়াদী এবং উদ্যোক্তা ঋণ ১৮ মাস হতে ২৪ মাস মেয়াদী হবে।

মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলার জন্য দুইজন গ্রাম সংগঠকের পদ রয়েছে যারা স্থানীয়ভাবে নিয়োগকৃত। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কর্মসূচির কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। গ্রাম সংগঠক কর্তৃক সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিসহ ঋণ প্রস্তাব উপজেলা দপ্তরে জমা দানের পর তা যথাযথভাবে যাচাই বাছাই করতঃ উপজেলা ঋণ মঞ্জুরী কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি জন সদস্যের ব্যাংক হিসাবে এডভাইসের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হয়ে থাকে। অপরদিকে বিতরণকৃত ঋণ মাসিক ভিত্তিতে বছরে ১২ (বার) কিস্তিতে সার্ভিস ফি সহ সমুদয় আসল টাকা গ্রাম সংগঠক কর্তৃক আদায় করা হয়ে থাকে। উক্ত ক্ষুদ্র ঋণ সম্পুর্ণ জামানতবিহীন। তবে উদ্যোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে জামানত প্রদান বাধ্যতামূলক। প্রতিটি কিস্তির সাথে নির্দিষ্ট হারে সঞ্চয় আদায় করা হয়, যার লভ্যাংশ ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিজন সদস্যকে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। কর্মসূচির ঋণ তহবিল ১১৮.০০ কোটি টাকা যা দিয়ে বর্তমানে ৪৭৬ টি উপজেলায় ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ঋণ তহবিলের স্বল্পতা, গ্রাম সংগঠকের অভাব, মেয়াদোত্তীর্ণ খেলাপী ঋণের বোঝা, আত্মসাৎ ইত্যাদি কারনে কর্মসূচির কার্যক্রম বর্তমানে খুবই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ অবস্থা হতে উত্তরণে খেলাপী শুন্য ও কার্যক্রম ভালো এরূপ উপজেলায় ঋণ তহবিলের যোগান, উদ্যোক্তা ঋণের প্রসার, জীবিকায়ন পল্লী গঠন, সুফলভোগীদের আয়বর্ধন প্রশিক্ষণ আয়োজন, গ্রাম সংগঠক নিয়োগ, মাঠ কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন, বিপনন সংযোগ স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন।