পল্লী প্রগতি প্রকল্প (পূর্বতন- একটি বাড়ি একটি খামার)

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত গ্রাম উন্নয়নের রুপরেখার আলোকে পবিত্র সংবিধানের ৭, ৯, ১০, ১৪, ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে ,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে জনগনের সামগ্রিক সেবা ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে ”একটি বাড়ি একটি খামার” শীর্ষক জাতীয় কর্মসুচীর দর্শণ প্রণয়ন করেন।

সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে একটি যুগোপযোগী, অনন্যসাধারণ, সুসমন্বিত ও সামগ্রিক উন্নয়নের উদ্যোগ “একটি বাড়ি একটি খামার” কর্মসূচী। এক কর্মসূচীতে গ্রামবাসী, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও মহিলাদের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নয়নে একটি উন্নততর অবকাঠামো সৃষ্টি ও গ্রামের প্রতিটি পরিবারের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের দর্শন দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামের অবকাঠামো সুবিধাদি উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা ও অর্থনৈতিক সুফল ভোগের জন্য ঋণ কার্যক্রমসহ সু-সংগঠিত বাজার ব্যবস্থা, হতদরিদ্র ও গ্রামীণ সকল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দানের ব্যবস্থা থাকবে।

সংবিধানে প্রতিশ্রুত ‘অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা’ এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতি সাধন’ এবং ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ’ এর লক্ষ্যে চলমান সকল উদ্যোগ সমন্বিত প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা সমীচীন এবং স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করে অধিকতর উৎপাদন নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে আশু প্রয়োজনীয় এবং নির্ভর ও কর্মবিমুখ মানসিকতার পরিবর্তে আত্মনির্ভরে, স্বাবলম্বী ও কর্মমুখী মানসিকতার উম্মেষ ঘটিয়ে একটি মর্যাদাশীল জাতি গঠন প্রক্রিয়া আরও বেগবান করা সকলের নৈতিক প্রত্যাশা।
 
২ জানুয়ারী,২০০১ তারিখের একনেক সভায় সার্বিক গ্রাম উন্নয়নসহ দারিদ্র বিমোচনে সরকারের বিঘোষিত নীতি এবং  এ লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের অংগীকারের প্রতিফলন হিসাবে পরিকল্পিতভাবে ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে “একটি বাড়ি একটি খামার” শীর্ষক জাতীয় কর্মসূচী নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ কাল জুলাই ২০০০ - জুন ২০০৫ পর্যন্ত, প্রকল্প ব্যয়  (মোট)  ১৪১০৭.৩৭ লক্ষ টাকা (জিওবি অনুদান) এবং ঋণ তহবিল ৯৫০০.০০ লক্ষ টাকা। প্রকল্প এলাকা সারা দেশের ৪৬৫টি ইউনিয়ন। ২১ আগষ্ট,২০০২ তারিখে “পল্লী প্রগতি প্রকল্প” এর পিপি (১ম সংশোধিত) বাস্তবায়নের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয় যার মেয়াদ কাল জুলাই ২০০০ - জুন ২০০৫ পর্যন্ত, প্রকল্প ব্যয়      (মোট)  ১৪১০৭.৩৭ লক্ষ টাকা (জিওবি অনুদান) এবং ঋণ তহবিল ১১৫০০.০০ লক্ষ টাকা। প্রকল্প এলাকা হিসাবে ধরা হয় ৬৪ জেলার ৪৬৫টি উপজেলা (প্রতি উপজেলায় ০১টি করে ইউনিয়ন)। ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরের শেষ ভাগে “পল্লী প্রগতি প্রকল্প” এর আওতায় ঋণ কার্যক্রম শুরু হয় এবং পউসবি’র মাধ্যমে প্রকল্পের জনবল নিয়োগ প্রদান করা হয়।

২৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৪, ২৮ মার্চ ২০০৪ এডিপি পর্যালোচন সভা এবং ২৬ মে ২০০৪  আন্তঃ মন্ত্রাণালয় স্টিয়ারিং সভা “পল্লী প্রগতি প্রকল্প” পিপি (১ম সংশোধিত) পুনরায় সংশোধনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় । ৩০ নভেম্বর ২০০৫ তারিখে “পল্লী প্রগতি প্রকল্প” পিপি (২য় সংশোধিত) এর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয় যার  মেয়াদ  জুলাই’২০০০ - জুন’২০০৮, প্রকল্প ব্যয় ১৪৯৬৬.৭৮ লক্ষ টাকা (জিওবি অনুদান) , ঋণ তহবিল  ১১৮০০.০০ লক্ষ টাকা এবং প্রকল্প এলাকা ৬৪ জেলার ৪৭৬টি উপজেলা (প্রতি উপজেলায় ০১টি করে ইউনিয়ন)। “পল্লী প্রগতি প্রকল্প” পিপি (২য় সংশোধিত) অনুযায়ী প্রকল্প মেয়াদ শেষে করণীয় ÒOn completion of the project the total actives along with working capital of Palli pragati Prakalpa will be transfer to the main scheme of BRDB and then it will continue as a regular program of BRDBÓ.

বিআরডিবি’র স্মারক নং ৫৮৪৯, তারিখ : ০৩/৬/২০১০ তারিখে পল্লী প্রগতি প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য পউসবি’র নির্দেশনা চাওয়ার প্রেক্ষিতে পউসবি’র স্মারক নং-১৭৮/১(৬)  তারিখঃ  ১/০৮/২০১০ এর মাধ্যমে “পল্লী প্রগতি প্রকল্প” ডিপিপি (২য় সংশোধিত) এর অনুবিধি মোতাবেক চলমান রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়।“পল্লী প্রগতি প্রকল্প” কে কর্মসূচি হিসাবে পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত প্রদান এবং কর্মসুচীর গাইড লাইন প্রস্তুত করণে নির্দেশনা প্রদান করা হয় (স্মারক নং-০৮৭.২০১২.২৬৪(৮) তারিখঃ  ২৫/১০/২০১২) মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পূর্বের নিয়মে প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান আছে।

দলগঠন, সদস্যভর্তি, সঞ্চয়জমা, অবহিতকরণ/প্রশিক্ষণ, ঋণ বিতরণ ও আদায় ইত্যাদি কার্যক্রম অব্যাহত আছে। প্রকল্প সদর কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয় ও জনবলের বেতন ভাতাদির বিষয়ে ষ্টিয়ারিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের বিভিন্ন হিসাবসমুহ হতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ, কু-ঋণ, সাসটেন্যাবিলিটি ফান্ড এবং সকল স্থায়ী আমানতের লভ্যাংশ হতে (যা প্রকল্পের নিজস্ব আয় হিসাবে বিবেচিত)  নির্বাহ করা হচ্ছে।